Category: writings

Auto Added by WPeMatico

শীতের চাদর

বাসায় আসার পর তিথির কথা মনে পড়ল বেশ কয়েকবার। মেয়েটার ফুচকা খাওয়ার দৃশ্যটা সামনে আসছে বারবার। তবে কি তার প্রেমে পড়ে গিয়েছে? অবশ্য সেটা মনে হয় প্রথম দেখার পরই ঘটেছে। নাহলে এত করে তাকিয়ে সে দেখত না আর নিজের চাদরও কাউকে দেওয়ার মানুষ সে না।

মধু কবি

শিশির ফোঁটা পালকভেজা, শূন্য এসব
জাগবে তুমি পড়ব যখন, বাঁচব আমি
তোমার সাথে, মরব যখন
জাগবে এ দেশ, জাগবে মাটি, জাগবে হরফ
সাজানো আর পরিপাটি
ঘুমিয়ে তুমি স্বপ্ন দেখো, তোমার চোখে বঙ্গভূমি
অমর হয়ে রইল স্মৃতি, অমর হয়ে কাব্যগাথা
মায়ের চোখে মহান কবি, মায়ের বুকে দহন ছবি
বৃষ্টি ফোঁটায় মাটির বুকে, অহরহ জাগে ব্যথা

আমার একুশ

শুধু পতাকা নিয়েই নয়। তখন স্কুলে কলাগাছ কেটে পুরোনো পত্রিকা দিয়ে মুড়িয়ে নির্মাণ করা হতো অস্থায়ী শহীদ মিনার। আগের রাতেই সব প্রস্তুতি শেষ হতো। একুশের সকালে স্কুলে যেতাম। দেশাত্মবোধক গান বাজত মাইকে। কখনো কখনো আলোচনা সভা হতো, কখনো আবার বিভিন্ন প্রতিযোগিতা হতো। দুপুর গড়িয়ে পুরস্কার বিতরণও হতো। বিকেলে দেশের গানের সুর পেতাম। আর বিটিভিতে দিনটি ঘিরে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার হতো।

নিস্তব্ধ বিকেল

গ্রামের বাড়ির ঠিক পেছনে বিস্তীর্ণ মাঠ। সেখানেই হাঁটতে যাব আজ। কিছুক্ষণের মধ্যেই বেরিয়ে পড়লাম। সময়টা বিকেল পাঁচটা। সন্ধ্যা নামার পূর্বক্ষণ। মাঠের মাঝখান দিয়ে হাঁটছি আমরা। চারপাশ কুয়াশায় আচ্ছন্ন। বিস্তৃত জনমানবশূন্য মাঠ। সন্ধ্যার সময় গ্রামবাসীরা বাইরে বের হন না। আকাশ লাল আভায় ছেয়ে আছে। পাখিরা ফিরছে নিজ ঠিকানায়। শীতকাল হওয়ায় জমিতে এখন ধান নেই। একঝলকে সম্পূর্ণ মাঠের এক প্রান্তর থেকে অন্য প্রান্তর দেখা যায়। একটি নিস্তেজ ট্রাক্টর পড়ে আছে মাঠের ঠিক মাঝখানে। আশপাশ থেকে ভেসে আসছে বিভিন্ন কীটপতঙ্গের ডাক।

সমাধিস্থ স্বপ্ন

অজস্র স্বপ্ন আজ প্রতিনিয়ত
সমাধিস্থ হচ্ছে মনের নিস্তব্ধ শ্মশানে
কান্নার রোল আর আহাজারি এখন
সীমাবদ্ধ আছে শুধু আমার মাঝেই
যেখানে না-বলা কথাগুলো ক্রমেই
হারিয়ে যেতে থাকে গহিন অরণ্যে
স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে এক পাহাড় যন্ত্রণা
নিজের মাঝে আলিঙ্গন করে নেওয়া
একটা সময় এসে নিজেকে মৃত্যুর
কোলে সঁপে দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি
নিতে হয় সব আশার বিসর্জন দিয়ে
এখানে একটা অধ্যায়ের সমাপ্তি।।

নক্ষত্রেরও পতন হয়

সব স্মৃতি ভুলে থাকা যেন এক মৃত্যুসম যন্ত্রণা;
স্মৃতির তরঙ্গে ভেসে আসে চেনাজানা প্রিয় মুখ।
দুঃখের বীজ বপন করার চলে অবিরল এক নেশা।
যাতনাকে সঙ্গী করে চলেছে যার যুগের পর যুগ
এভাবে অন্তিম বেলায় কারও হাসি হয়ে যায় মলিন।
শত ব্যথার আঘাত বুকে নিয়ে কিছু প্রদীপ
নিভে যায় অবশেষে;
চাঁদের আলো ফুরিয়ে গেলে নক্ষত্রেরও পতন হয় চিরকাল।

আমি জীবনানন্দ হয়ে বেঁচে আছি

জীবন হতে পারে এক মরীচিকা,
কিংবা শক্ত কোনো সত্য,
হয়তো এ জীবনের বাইরে আছে আরেক জীবন,
যে জীবনে আমি নই এতটা দুর্বোধ্য!
আমি জীবনানন্দ হয়ে বেঁচে আছি,
ঠিক যেভাবে সে চেয়েছে।
আমি কল্লোল হয়ে কবরিতে হারাই বারে বারে,
ঠিক যেভাবে জীবনানন্দ হারিয়েছিল তার এই ধরণিতে।

তোমার মুখোমুখি

সন্ধ্যার স্বপ্নে, ছুটে আসে চাঁদ,
মুক্ত আকাশে রুপালি জোছনার রাত
আমি সেই রাতেরও দোসর হব।
কবিতার খেরোখাতায় চোখ বুলাব প্রিয়তমা,
তোমার মায়াবী কথার অলংকারে
আমি কবি হব; উপমা, শ্লেষ আর শব্দ ঝংকারে।
গোধূলির ওপারে মিশে যাবে অরুণ রাঙা হাসি
তবু বসে থাকব তোমার মুখোমুখি
একটা কবিতা শোনার জন্য।

কবিতার কথা

সৌন্দর্য বয়ে আনতে
কবিদের রোজ অবিরাম চেষ্টা,
কখনো কখনো ভেতরটা নাড়ে
কখনো কখনো আকাশে দৃষ্টি মেলে
উপেক্ষা করে ঝড়বৃষ্টি
জীবনের কিছু কথা কবিতায় রূপ নেয়!
কিছু কবিতা বিচ্ছেদের হয়
কিছু হয় বিরহের
কিছু হয় রোমাঞ্চকর
কখনোবা তুলে আসে সাম্যের দল!

কালের সাক্ষী পটিয়া ক্লাবের মোস্তাফিজুর রহমান পাঠাগার

চট্টগ্রামের পটিয়া থানার মোড় থেকে শহীদ আবদুস ছবুর রোড দিয়ে কিছুদূর গেলে চোখে পড়বে পটিয়া ক্লাব রোড। পটিয়া ক্লাব ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৬ সালে ক্লাবের ভেতর একটি পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন আলাদাভাবে পাঠাগারের সদস্য হওয়া লাগত। ক্লাবের আজীবন সদস্যরা মূলত পাঠাগারের পাঠক। সদস্য হতে হলে ৫০ টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করতে হতো। আবার মাসিক চাঁদা ছিল ৫ টাকা।